টেকনাফ প্রতিনিধি: মিসবাহ উল্লাহ,
সেলিমের পারিবারিক ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন মহাকাব্য, যার হাত ধরে আনন্দের বন্যা বইছে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শিলখালী গ্রামে। সকল বাধা-বিপত্তি আর জীবনের কঠিন সংগ্রামকে পেছনে ফেলে পরিবারের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে যাচ্ছেন বাহারছড়া শিলখালী ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ ও স্নেহের সন্তান সেলিম উল্লাহ।
সম্প্রতি প্রকাশিত কক্সবাজার কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ১২২ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেছেন টেকনাফের এই কৃতি সন্তান। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে তিনি কর কর্পোরেশন, কক্সবাজার-এর “প্রধান সহকারী” পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
সেলিম উল্লাহর এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। পৃথিবীতে আসার মাত্র ৬ মাস বয়সে তিনি তার মাথার ওপর থেকে ছায়ার মতো থাকা ‘বটবৃক্ষ’ বাবাকে হারান। একজন পিতৃহীন সন্তানের জন্য জীবনের নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে বাবার অভাব তাকে বুঝতে দেননি তার পিতৃতুল্য বড় ভাইয়েরা। বিশেষ করে বড় ভাইয়ের নিজের অবস্থান থেকে দেওয়া সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও ত্যাগের কারণে সেলিমকে ছাত্রজীবনে কখনোই টিউশনি বা অন্য কোনো আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি। পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থন আর সেলিমের নিজের একাগ্রতাই আজ তাকে এই গৌরবময় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ছোট ভাইয়ের এই অনন্য সাফল্যে আবেগাপ্লুত বড় ভাই তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন—
”তোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায় তোকে আগামীতে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে দেশের স্বার্থে সর্বদা সততা, নীতি ও নৈতিকতার সাথে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাবি—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।”
টেকনাফের বাহারছড়া শিলখালী গ্রাম থেকে উঠে আসা সেলিম উল্লাহর এই কৃতিত্বে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী অত্যন্ত গর্বিত। সততা ও মেধার জোরে শূন্য থেকে কীভাবে শীর্ষে পৌঁছানো যায়, সেলিম উল্লাহ আজ এলাকার তরুণ প্রজন্মের কাছে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।