টেকনাফ প্রতিনিধি (মিসবাহ উল্লাহ):
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর রাজারছড়া পাহাড়ি এলাকায় এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে চকরিয়া থেকে অপহৃত ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের এই অভাবনীয় সফলতায় অপহৃতদের পরিবারসহ পুরো জেলাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৩ জন কিশোর ও ২ জন যুবক রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপহৃতদের অবস্থান নিশ্চিত করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাঠে নামে পুলিশ। অভিযানের নেতৃত্ব দেন থানার চৌকস কর্মকর্তা এসআই মোরশেদ আলম। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নানামুখী ঝুঁকি উপেক্ষা করে পুলিশ দল রাজারছড়া পাহাড়ের গভীরে চিরুনি অভিযান চালায়। পুলিশের তীব্র চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অপহৃত পাঁচজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।
প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃতদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর সন্তানদের ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। তারা টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ এবং বিশেষ করে অভিযানের অগ্রভাগে থাকা এসআই মোরশেদ আলমের বীরত্ব ও পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফে অপহরণ, মাদক, মানবপাচার ও পাহাড়কেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে এসআই মোরশেদ আলম তাঁর সততা, সাহসিকতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে একের পর এক সফলতার কারণে টেকনাফবাসীর কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এর আগেও এসআই মোরশেদ আলম একাধিক জটিল অপহরণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপহৃতদের জীবিত উদ্ধার, বিপুল পরিমাণ মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ শীর্ষ ডাকাত ও মানবপাচারকারীদের গ্রেফতারে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। অপরাধ দমনে তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য পুরো কক্সবাজার জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এসআই মোরশেদের মতো সাহসী ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার খুবই প্রয়োজন। এমন কর্মকর্তাদের কারণেই সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর ভরসা পায় এবং অপরাধীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।”
টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্ত পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে টেকনাফের পাহাড়ি ও সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।