যুগ যুগ ধরে নেই সেতু, হাজারো মানুষের যাতায়াতে একমাত্র ভরসা নৌকা
বিপজ্জনক পারাপারে চরম দুর্ভোগে ঈদগাঁওয়ের তিন গ্রামের মানুষ
জাওয়ান উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থল ফুলেশ্বরী নদী। এই নদীর এক পাড়ে ইসলামাবাদের হিন্দু পাড়া ও চরপাড়া, অন্য পাড়ে জালালাবাদের তেলী পাড়া। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী—সবারই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন একটি ছোট নৌকা।
সরেজমিনে (৪ মে) সোমবার সকালে হিন্দু পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফুলেশ্বরী নদী পার হওয়ার জন্য ঘাটে ভিড় করে আছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় নৌকা পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, ইতিপূর্বে এখানে নৌকা ডুবে হতাহতের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করলেও বর্ষার শুরুতেই তা ভেঙে যায়। ফলে বছরের অর্ধেক সময় নদী পার হতে হয় প্রাণ হাতে নিয়ে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এই নদী পার হয়ে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। দুর্ঘটনার আতঙ্কে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় ক্লাস মিস হয়। কোনো মানুষ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ১০ মিনিটের রাস্তা ঘুরে আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টারও বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দা এচারুল হক বলেন, “আমাদের এই দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। আমরা চাই আমাদের প্রাণের দাবি—হিন্দুপাড়া, চরপাড়া ও তেলীপাড়া সংযোগ সেতুটি যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
ভুক্তভোগী এক নারী পথচারী আক্ষেপ করে বলেন, “ছোট ছোট বাচ্চারা ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। আমরা কত বছর ধরে এই কষ্টের মধ্যে আছি তা কেউ দেখে না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন কান্তি দে জানান, সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “সেতুটি একবার অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও অজানা কারণে তা আর হয়নি। এলাকার মানুষের স্বার্থে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এই জনপদে একটি স্থায়ী সেতু এখন সময়ের দাবি।”
বৃহত্তর ঈদগাঁওর এই অঞ্চলের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ফুলেশ্বরী নদীর ওপর একটি স্থায়ী পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এখন অপরিহার্য। এলাকাবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে দীর্ঘদিনের এই অভিশাপ থেকে তাদের মুক্তি দেবেন।