কক্সবাজার, ২২ এপ্রিল ২০২৬: কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ভয়াবহ অনিয়মিততায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র গরমের মধ্যে দিনে-রাতে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন একেবারে অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, কখনো কখনো ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে গরমে ঘুমাতে পারছেন না বাসিন্দারা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম একেবারে বিপর্যস্ত। অনেকেই বলছেন, “দেখার কেউ নেই” — বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ দিতে গিয়েও সমাধান মিলছে না।
রামু বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের আওতাধীন এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই সংকট তীব্র হয়েছে। দেশব্যাপীও এখন লোডশেডিং বেড়েছে, কিন্তু গ্রামীণ এলাকা হিসেবে রামু ও আশপাশের নাইক্ষ্যংছড়িতে এর প্রভাব আরও বেশি।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া থাকা যাচ্ছে না। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, খাবার নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কোনো কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া নেই।”
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের উৎপাদন সংকট ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা দ্রুত সমাধান চান এবং বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে জনজীবন আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে।
প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের দাবি— অবিলম্বে লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এই ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।