
রামু (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক তরুণ গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য। মারধরের শিকার হয়ে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানো এক ভিডিও বার্তার কিছুক্ষণ পরই তার নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিবার হত্যাকাণ্ডের দাবি করেছে।
অভিযোগ, নির্মম নির্যাতনের পর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া এলাকায় ঘটনা ঘটে। নিহত তানিয়া আক্তার (২১) স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় আর্ত আকুতি:
নিহতের পরিবার জানায়, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে তানিয়া এক ভিডিওতে নিজের ওপর চলমান নির্যাতনের বর্ণনা দেন। ভিডিওতে তিনি আর্তনাদ করে বলেন, তাকে মারধর করা হচ্ছে এবং দ্রুত উদ্ধার না হলে হত্যা করা হতে পারে। এই বার্তা ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগকে জোরালো করেছে।
দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রেমের সম্পর্কে তানিয়া ও স্বামী শাহরিয়াতের বিয়ে হয়। শুরুতে পরিবারের আপত্তি থাকলেও পরে মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে স্বামীর পরকীয়া জানাজানি হওয়ায় তানিয়ার ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন বাড়ে। ঘটনার দিনও এই বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির পর তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্বজনরা দাবি করছেন, মারধরের চিহ্ন লুকানোর জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতের এক বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে।
পুলিশ তদন্ত শুরু, অভিযুক্ত পলাতক
ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ। স্বজনরা স্বামী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত শাহরিয়াত পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।