
চট্টগ্রাম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমার দিন (শুক্রবার) সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বলে বিবেচিত। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য শুধু সাপ্তাহিক সমাবেশ নয়, বরং ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া বৃদ্ধি এবং সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য সুযোগ। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের জন্য জুমার নামাজ ফরজ এবং আদায় করা বাধ্যতামূলক।
পবিত্র কুরআনে সূরা আল-জুমুআ (৬২:৯) এ আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের নির্দেশ দিয়েছেন: “হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং কেনাবেচা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”
হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার ফজিলত বর্ণনা করে বলেছেন, “সূর্য যে দিনগুলোতে উদিত হয়, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং কিয়ামতও এ দিনেই সংঘটিত হবে।” (সহিহ মুসলিম, তিরমিজি প্রমুখ)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, জুমার দিন মুমিনের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের মতো (ইবনে মাজাহ)।
জুমার পূর্বপ্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ আমল
ধর্মীয় আলেমদের মতে, জুমার দিনে কিছু সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল পালন করলে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়:
গোসলুল জুমু’আ: জুমার দিনে গোসল করা সুন্নত। পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন অবস্থায় নামাজে যোগ দেওয়া ইবাদতের শিষ্টাচার।
উত্তম পোশাক ও সুগন্ধি: সামর্থ্য অনুযায়ী পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম।
আগেভাগে মসজিদে যাওয়া: হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা আগে মসজিদে পৌঁছান, তারা অধিক সওয়াব পান। প্রথমে যাওয়া যেন উট কোরবানির সমতুল্য, পরবর্তীতে যাওয়া গরু বা ছাগলের সমতুল্য।
নফল ইবাদত: মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ আদায়, দরুদ শরিফ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটানো।
খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা: খুতবার সময় কথা বলা, চলাফেরা বা অমনোযোগী হওয়া নিষিদ্ধ। চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি।
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
হাদিসে বর্ণিত আছে, জুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে যখন বান্দার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। আলেমদের মতে, এই সময়টি খুতবার সময় (ইমাম মিম্বরে বসার পর থেকে নামাজ শেষ পর্যন্ত) অথবা আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত হতে পারে। অনেকে আসর-মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়কে অধিক গুরুত্ব দেন। এ সময় বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও জিকির করা উচিত।
সামাজিক ও আত্মিক তাৎপর্য
জুমা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এটি মুসলিম সমাজের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সমতার প্রতীক। একই কাতারে ধনী-গরিব, উচ্চ-নিম্ন সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দেয়। নিয়মিত জুমার নামাজ আদায় ও যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ ব্যক্তির জীবনে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও তাকওয়া বৃদ্ধি করে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে জুমার দিন তাই শুধু সাপ্তাহিক ইবাদত নয়—এটি আত্মসমালোচনা, ক্ষমা প্রার্থনা এবং সৎপথে অবিচল থাকার নতুন অঙ্গীকারের দিন।