
চট্টগ্রাম, ৩১ জানুয়ারি: বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক আয়োজিত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অসংখ্য বানান ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রে কমপক্ষে ১৭৭টি বানান ভুল চিহ্নিত করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। দেশের সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় এমন ত্রুটি দেখে শিক্ষার্থী এবং বিশেষজ্ঞরা হতবাক।
প্রশ্নপত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশ্নকর্তাদের বাংলা বর্ণমালার মূল নিয়মাবলীতে দুর্বলতা প্রকট। বিশেষ করে মূর্ধন্য ‘ণ’ বর্ণের পরিবর্তে দন্ত্য ‘ন’ ব্যবহার করে অসংখ্য শব্দের বানান বিকৃত করেছে। সাধারণ শব্দগুলোতেও এই ভুল লক্ষণীয়, যা পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আচরণ’ শব্দটি ‘আচরন’ হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘পরিগণিত’কে ‘পরিগনিত’ করা হয়েছে, ‘গবেষণা’কে ‘গবেষনা’, ‘সাধারণ’কে ‘সাধারন’, ‘ধারণা’কে ‘ধারনা’, ‘জনগণ’কে ‘জনগন’, ‘উদাহরণ’কে ‘উদাহরন’, ‘সম্প্রসারণ’কে ‘সম্প্রসারন’, ‘বহুমুখীকরণ’কে ‘বহুমুখীকরন’, ‘নিয়ন্ত্রণ’কে ‘নিয়ন্ত্রন’, ‘অংশগ্রহণ’কে ‘অংশগ্রহন’, ‘কারণ’কে ‘কারন’, ‘সৎগুণ’কে ‘সদগূন’, ‘গ্রহণ’কে ‘গ্রহন’, ‘মন্ত্রণালয়’কে ‘মন্ত্রনালয়’, ‘নির্মাণ’কে ‘নির্মান’, ‘পরিমাণ’কে ‘পরিমান’ এবং ‘বর্ণ’কে ‘বর্ন’ লেখা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছেন, এমন ভুলভরা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়েছে। একজন পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, “বিসিএসের মতো পরীক্ষায় বানানের মৌলিক নিয়ম না মানলে আমরা কীভাবে বিশ্বাস করব যে প্রশ্নগুলো সঠিক?” পিএসসির এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন, তবে সূত্র জানিয়েছে যে এই ত্রুটির জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভুলগুলো শুধু বানান সংক্রান্ত নয়, বরং পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সামগ্রিক গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি এড়াতে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি পর্যালোচনা দরকার।