কক্সবাজার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা হাজার হাজার শরণার্থীর জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে এই ঘটনাগুলোর পেছনে কি শুধু দুর্ঘটনা, নাকি গভীরতর রহস্য লুকিয়ে আছে? স্থানীয় সূত্র এবং তদন্তকারীদের মতে, কিছু ঘটনা ইচ্ছাকৃত স্যাবোটেজ হতে পারে, যা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের সাথে যুক্ত।
গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত চারটি বড় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ক্যাম্প ২৪-এ আগুন লেগে প্রায় ৫০টি আশ্রয়স্থল ধ্বংস হয়েছে, যাতে তিনটি শিশু আহত হয়। পরের দিন, ২৯ ডিসেম্বর, ক্যাম্প ২৫-এ আরেকটি আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা ২০-২৫টি বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এরপর ২৬ ডিসেম্বর ক্যাম্প ৪-এ একটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়, যদিও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে ক্যাম্প ১৬-এ, যেখানে ১০০ থেকে ১০০০টি আশ্রয়স্থল পুড়ে গেছে, হাজারো পরিবারকে গৃহহীন করে তুলেছে।
এই অগ্নিকাণ্ডগুলোর পেছনের রহস্য নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক তদন্তে বলা হচ্ছে, আগুন লাগার কারণ রান্নার চুলা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি। ক্যাম্পগুলোর ঘনবসতি এবং বাঁশ-টারপলিনের মতো সহজপোড়া উপাদান দিয়ে তৈরি আশ্রয়স্থলগুলো আগুনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। শুষ্ক মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তবে কিছু সূত্রের দাবি, এর পেছনে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর হাত রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো এই ঘটনাগুলোকে ‘শুষ্ক মৌসুমের ঝুঁকি’ বলে চিহ্নিত করেছে, কিন্তু মিলিট্যান্ট অ্যাকটিভিটির বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত মার্চ মাসে এআরএসএ-এর সাথে সংশ্লিষ্ট চারটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এই অগ্নিকাণ্ডগুলোতে কোনো বড় প্রাণহানি না ঘটলেও, হাজারো শিশু এবং পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ইউনিসেফের মতে, এতে ৩৫০০ শিশু গৃহহীন এবং ১৫০০ শিশুর শিক্ষা ব্যাহত হয়েছে। সরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে, কিন্তু রহস্যের মূল কারণ উদঘাটন না হলে এমন ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে। তদন্তকারীরা আরও গভীর অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছেন, যাতে মিলিট্যান্ট গ্রুপগুলোর ভূমিকা যাচাই করা যায়।
কক্সবাজারে ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করে, যাদের অধিকাংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন। এই ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে, এবং রহস্যের সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।