• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
টেকনাফে সেনাসদস্যের ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা: নেপথ্যে থাকা সেই ‘ডন’ আলম, জসিম ও রিদওয়ানরা কারা? মাছ ধরার আনন্দেও কাটছে না ভয়: টেকনাফের উপকূলবাসীর দ্বিমুখী জীবনসংগ্রাম টেকনাফে মা’দক সন্ত্রা’সীদের হাতে সেনা সদস্য গু’লি’বিদ্ধ, কক্সবাজারে বি’ক্ষো’ভ কক্সবাজারে এসআরবি-১৫-এর অভিযানে বগুড়ার ৩৭ লাখ টাকার প্রতারণা মামলার আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের লেদায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলি: গুলিবিদ্ধ ১ অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে গেল কারবারিরা, টেকনাফে মিলল ২০ হাজার ইয়াবা সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক কক্সবাজারে পেটের ভেতরে লুকানো ১,৫৮০ পিস ইয়াবাসহ রাজবাড়ীর যুবক আটক আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি, বিদায় বাংলাদেশ: আসিফ মাহমুদ প্রথম আলোর ফেসবুক পেজের সেই ‘স্যরি’ পোস্টের পেছনের গল্প

কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদামে ‘অদৃশ্য’ ধান-চাল: বিপ্লবোত্তর যুগে জনগণের ক্রোধ ও আশার মিশ্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক। / ৩৩৪ Time View
Update : রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদামে ‘অদৃশ্য’ ধান-চাল: বিপ্লবোত্তর যুগে জনগণের ক্রোধ ও আশার মিশ্রণ

১২ জানুয়ারি ২০২৬ (স্বাধীন প্রতিবেদক) – জেলা খাদ্য গুদাম থেকে ৫২১ মেট্রিক টন ধান এবং ৩৫ টন চাল রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দুর্নীতিমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখা সাধারণ জনগণ এই ঘটনাকে পুরনো ব্যবস্থার ‘অবশিষ্ট বিষ’ হিসেবে দেখছেন, যা নতুন প্রশাসনের সতর্কতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক অভিযানে এই অনিয়ম উন্মোচিত হয়েছে, যা জনমনে একদিকে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়েছে, অন্যদিকে সিস্টেমের গভীরতর সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জুলাই বিপ্লব, যা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক সরকারের পতন ঘটায়, তারপর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ বদলে গেছে। বিপ্লবের মূল দাবি ছিল দুর্নীতি, অসমতা এবং অদক্ষতার বিরুদ্ধে লড়াই। কুড়িগ্রামের এই ঘটনা সেই প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছে একটি ‘পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, “বিপ্লবের পর আমরা ভেবেছিলাম গুদাম থেকে ধান-চাল আর চুরি হবে না। কিন্তু এখনও এমন হচ্ছে দেখে মনে হয়। নতুন সরকারকে এটা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে, না হলে বিপ্লবের অর্থ কী?”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকে এটাকে ‘পুরনো রোগের পুনরাবৃত্তি’ বলে আখ্যায়িত করছেন, যেখানে বিপ্লবের আগের যুগে খাদ্য গুদামগুলো দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত ছিল। একটি অনলাইন ফোরামে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “জুলাইয়ের আগুন এখনও জ্বলছে, কিন্তু এমন ঘটনা দেখলে মনে হয় আগুনটা পুরোপুরি ছড়ায়নি। দুদকের অভিযান ভালো, কিন্তু ফলাফল না দেখলে জনগণের বিশ্বাস ফিরবে না।” অন্যরা আবার আশাবাদী – তারা মনে করেন, বিপ্লবের পর দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সক্রিয় হয়েছে, যা পুরনো দুর্নীতি উন্মোচন করে নতুন যুগের ভিত্তি স্থাপন করবে।

কুড়িগ্রামের বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই উধাও ধান-চালের প্রভাব সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তায় পড়তে পারে, বিশেষ করে শীতকালীন ফসলের সময়। একজন গৃহিণী, ফাতেমা বেগম, বলেন, “আমাদের ধান কষ্ট করে উৎপাদন করি, কিন্তু গুদামে রাখলে উধাও হয়ে যায়। বিপ্লবের পর আমরা আশা করেছিলাম সবকিছু স্বচ্ছ হবে। এখন মনে হয়, পরিবর্তন আসছে, কিন্তু ধীরে ধীরে। সরকারকে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।”
জানা যায়,এই ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনগণের দৃষ্টিতে এটি শুধু একটি ঘটনা নয়, বরং বিপ্লবোত্তর সমাজের একটি আয়না – যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত, কিন্তু সফলতার জন্য আরও সময় ও প্রচেষ্টা দরকার। এই ঘটনা জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনার পুনর্গঠনের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ‘অদৃশ্য’ কেলেঙ্কারি আর না ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd