চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র একদিন পর সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমনি কদ্দাছড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার শিশুটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার সকালে ঈদমনি কদ্দাছড়া এলাকার এক স্থানে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্বজনদের অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ
নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আলামত বিশ্লেষণ ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।
নিরাপত্তা ও শাস্তির দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে একটি শিশুর সঙ্গে এমন বর্বরোচিত ঘটনা এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। তারা অবিলম্বে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তের গতি আরও বাড়ানো হবে এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।