দিদারুল আলম জিসান: কক্সবাজার
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ এবং ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার রেঞ্জের কলাতলী বিটের রক্ষিত বনভূমির ঝিলংজা মৌজার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সুখনাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নতুনভাবে গড়ে ওঠা ৬টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
কলাতলী বিট কর্মকর্তা ক্যাচিং মারমার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন বিটের কর্মকর্তা, বন বিভাগের স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানকালে অবৈধভাবে নির্মিত দোকানগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং দখলদারদের সতর্ক করা হয়।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা দখল করে সেখানে দোকানপাট, বসতঘর, পর্যটন কেন্দ্রিক স্থাপনা এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বনাঞ্চলকে টার্গেট করে এসব দখলচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে কিংবা ছুটির দিনগুলোতে তারা দ্রুত স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে, যাতে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যেতে পারে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখলের মাধ্যমে শুধু সরকারি সম্পত্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে। পাহাড় কাটা, গাছ নিধন এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ভূমিধস, পরিবেশ বিপর্যয় এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ দখলদার ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, বনভূমি দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না।
তারা আরও বলেন, যারা অবৈধভাবে বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও বনভূমি রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল হক জানান– সদর রেঞ্জের আওতাধীন যে সকল বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা পাহাড় কর্তন বনের কাঠ পাচার সহ সকল বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান হয়েছে বন বিভাগ রক্ষায় ফরেস্ট কর্মকর্তারা বদ্ধপরিকর :
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা DFO) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান ইতিমধ্যে পুরো কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ফরেস্ট সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম যারা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে পাশাপাশি অপরাধীদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে তারা যেন বন অপরাধ থেকে বিরত থাকেন অন্যথায় বন অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না
বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সরকারি বনভূমি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর বার্তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।