
নাইক্ষ্যংছড়ি, ২৭ জানুয়ারি: বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩ নং ঘুমধুম ইউনিয়নে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের (আরসা) অভিযোগে তিনজন তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বাসিন্দা মারধর ও হুমকির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনাগুলো গত কয়েকদিনের মধ্যে ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রথম ঘটনায়, গত ২৪ জানুয়ারি (শনিবার) চিয়ন্যা তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিয়ন্যা তঞ্চঙ্গ্যা জামিরতলী গ্রামের (৯ নং ওয়ার্ড) বাসিন্দা। তার পিতা কালিচরণ তঞ্চঙ্গ্যা এবং মাতা মাউককেং তঞ্চঙ্গ্যা। জন্মের পর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন।
ওইদিন তিনি টেকনাফের হরিখোলা বৌদ্ধ বিহারে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পায়ে হেঁটে রওনা দেন। সন্ধ্যার দিকে পথে কয়েকজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাকে সন্দেহজনক মনে করে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নানা অজুহাতে তাকে মারধর করা হয় এবং বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, গত ২২ জানুয়ারি একই উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে আরও দুজন তঞ্চঙ্গ্যা বাসিন্দা হামলার শিকার হন। বর্নমালা তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক নারী এবং কালু তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক যুবক সকালে ফাত্রাঝিড়ি গ্রাম থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূরের বাগানে ফুলঝাড়ু (ঝাড়ু তৈরির উপকরণ) কাটতে যান।
হঠাৎ অস্ত্রধারী তিন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাদের আটক করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দুজনকেই নির্মমভাবে মারধর করা হয়। বর্নমালা তঞ্চঙ্গ্যাকে মারধরের পর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কালু তঞ্চঙ্গ্যাকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে সন্ত্রাসীরা তাদের সতর্ক করে বলে যে, পাহাড়ি এলাকায় আর প্রবেশ করা যাবে না এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।