দিদারুল আলম জিসান:! কক্সবাজার
কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া” রেঞ্জের দখল করে অবৈধভাবে নির্মাণ করা সাতটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ। বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও সরকারি সম্পদ দখলের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের মালিকানাধীন ও সংরক্ষিত জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিল। কোথাও বসতঘর, কোথাও দোকান কিংবা অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে বন বিভাগের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারা এসব স্থাপনা চিহ্নিত করেন। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আজ রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২৬
মধুরছড়া এলাকায়,সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়
অভিযান চালিয়ে সাতটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উখিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিভিন্ন বিটের বিট কর্মকর্তা,স্টাফ,ই আর টি দলের সদস্য সহ অভিযান পরিচালনা করা হয় ॥ অভিযানে ৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আনুমানিক ৩০ একর বনভূমি জবরদখল মুক্ত করা হয় ॥ কথিত হেডম্যন ইব্রাহীম ও তাঁর ভাই ওমর ফারুক অবৈধভাবে জবরদখলের সাথে জড়িত ॥ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ॥
অভিযান চলাকালে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্থাপনাগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বন বিভাগের জমিতে নতুন করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করতে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় বনভূমি দখল করে বসতি স্থাপন, দোকানপাট নির্মাণ, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির প্রবণতা রয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা স্থানীয় একটি শ্রেণির সহযোগিতায় সরকারি বনভূমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের মূল্যবান সম্পত্তি বেদখল হচ্ছে, অন্যদিকে বন ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বিশেষ করে উখিয়ার পাহাড়ি ও বনাঞ্চলগুলোতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। পাহাড়ের ঢাল ও বনভূমিতে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা গড়ে ওঠায় মাটি ক্ষয়, পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের জমি দখল করে প্রথমে ছোট আকারের ঘর বা দোকান নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সেই স্থাপনা বড় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে একবার স্থাপনা নির্মাণের পর সেটিকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি বনভূমি স্থায়ী দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। যারা বন বিভাগের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বা নতুন করে নির্মাণের চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারা আরও জানান, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের জায়গা চিহ্নিত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদ করা জায়গায় যাতে পুনরায় কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি জোরদার করা হবে।
এদিকে, বন বিভাগের এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মানুষজন। তাদের মতে, শুধু স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না; উচ্ছেদের পর সরকারি জায়গাগুলো পুনরায় দখল ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, উখিয়ায় বন বিভাগের জমি দখলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সরকারি বনভূমি দখলের প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি উচ্ছেদ করা জায়গায় পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি বনভূমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করলে তা উচ্ছেদের পাশাপাশি প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।