টেকনাফ প্রতিনিধি :মিসবাহ উল্লাহ,
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মনতলিয়া এলাকায় এক প্রবাসী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি এই অভিযোগ তুলে সুবিচারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি মনতলিয়া এলাকার সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ উল্লাহ। বিরোধপূর্ণ জমিটি জুমপাড়া বন বিভাগের অফিসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাইফুলের দাবি, উল্লেখিত জমিটি তিনি নিয়ম মেনে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু প্রবাদের প্রভাব ও টাকার জোর দেখিয়ে প্রবাসী মোহাম্মদ উল্লাহ উক্ত জমিটি গায়ের জোরে দখল করে নেন এবং সেখানে থাকা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন।
ঘটনার পর সাইফুল বিচার চেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত আবেদন জানান। তবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ উল্লাহ স্থানীয় বিচার-শালিস অমান্য করে বিদেশে পাড়ি জমান। বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তিনি পরিষদের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় ৯জন ইউপি সদস্য একমত হয়ে অভিযুক্ত কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করার বিষয়ে ভুক্তভোগী সাইফুলকে একটি লিখিত প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোহাম্মদ উল্লাহ তার অঢেল টাকার গরম দেখিয়ে বিচার মানছেন না। উল্টো একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে আমাকে হয়রানি করছেন। বছরের পর বছর ধরে আমি এই অত্যাচারের শিকার। আমার কাছে টাকা-পয়সা না থাকায় তিনি আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং আইনি জটিলতায় ফেলে নিঃস্ব করার চেষ্টা করছেন।”
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আদালতের আদেশে টেকনাফের বাহারছড়া ভূমি অফিসের তহশিলদার মোহাম্মদ জয়নাল সরজমিনে বিরোধপূর্ণ জমিটি তদন্ত করতে যান। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
টাকার প্রভাবে জবরদখল ও আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজের ক্রয়কৃত জায়গা ফেরত পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় সাইফুল।