ঈদগাঁও প্রতিনিধি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট। উপজেলার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে প্রতিরাতে দেদারসে পাচার হচ্ছে মূল্যবান গাছ। আর এই অবৈধ কাঠ পরিবহনের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে লাইসেন্স ও কাগজপত্রহীন ফিটনেসবিহীন ডাম্পার গাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করেই চলছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই পাল্টে যায় পুরো চিত্র। ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়কে শুরু হয় অবৈধ কাঠ বোঝাই ডাম্পার গাড়ির বেপরোয়া উৎপাত। বনাঞ্চল থেকে কেটে আনা স্তূপীকৃত কাঠ ও গোলগাছ রাতারাতি ডাম্পারে তুলে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। তীব্র গতিতে ছুটে চলা এসব অবৈধ গাড়ির কারণে সাধারণ পথচারী ও বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বন কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ বনাঞ্চল ধ্বংসের উৎসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকছে। নির্বিচারে বন ধ্বংস ও অবৈধ গাড়ি চলাচলের সুবাদে কিছু অসাধু কর্মকর্তা প্রতিরাতে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার বেআইনি টাকা। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, এখনই এই সিন্ডিকেটকে রুখতে না পারলে ঈদগাঁওর সংরক্ষিত বনাঞ্চল অচিরেই মরুভূমিতে পরিণত হবে।
গত ২৪ মে (রবিবার) সন্ধ্যায় ঈদগাঁও হাই স্কুল সংলগ্ন ডিসি রোড এবং জাগির পাড়া সড়ক থেকে তোলা কিছু স্থিরচিত্রে দেখা যায়— কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যেই কাঠ বোঝাই করে ছুটছে এসব ডাম্পার।
কোরবানির ঈদের এই সময়টাতে যখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পশুর হাট ও অন্যান্য নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লোপাট করছে এই চক্র। এলাকার পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় জেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ঈদগাঁওর সর্বস্তরের জনগণ।