
কক্সবাজার, ৪ মে: কক্সবাজারের রামু থানায় দায়িত্ব পালন করা সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন মাদক চোরাচালানি ও ইয়াবা কারবারিদের কাছে এখন এক ভীতিকর নাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি অপরাধ দমনে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তাতে স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলো চরম অস্বস্তিতে পড়েছে।
গত এক বছরে এসআই আনোয়ার হোসেন ১৫০টিরও বেশি নিয়মিত মামলা এবং ৩৫টি সিআর মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন। এর পাশাপাশি ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ১৬৪ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সফল হয়েছেন।
তিনি শুধু অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নন। সাধারণ মানুষের সেবায়ও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর নেতৃত্বে ১২০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৩৫ জন ভিকটিমকে উদ্ধার এবং একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতি মাসে জিআর ও সিআর মামলার সাজা ওয়ারেন্ট তামিল এবং ১৫টি চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন করে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ তদন্তের উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
কিন্তু তাঁর এই সাফল্যই এখন বিপদ ডেকে এনেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইয়াবা গডফাদারসহ বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী তাঁকে রামু থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সক্রিয় ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাঁকে হেয় করতে ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসআই আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি আইনের পথে চলছি এবং ভবিষ্যতেও চলব। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার আমাকে দমাতে পারবে না। সততা ও ন্যায়ের পক্ষে থেকেই কাজ করে যাব।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, একজন সৎ ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পিত অপচেষ্টা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য হুমকি। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি জানিয়েছেন।