দিদারুল আলম জিসান: কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, বনভূমি উজাড় এবং খাল থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে এক ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে ড্রেজার মেশিন, কোদালসহ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা। এ সময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি এবং ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে খাল ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। পাহাড়ের গাছপালা উজাড় হয়ে পড়ছে, পাহাড়ের আকৃতি নষ্ট হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে আসছিলেন।
এছাড়াও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে খাল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শ্রমিক ও দায়িত্বরত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে সাইফুল ইসলাম ভূট্টো (৪২) নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি কোদাল এবং অন্যান্য সরঞ্জামও প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে যারা পরিবেশ ধ্বংস করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই এ ধরনের অপরাধ সহ্য করা হবে না। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পাহাড় কাটা, বনভূমি দখল, খাল ভরাট এবং বালু উত্তোলনের অভিযোগ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান সাময়িকভাবে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উখিয়ার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।