
দুবাই/আবুধাবি প্রতিনিধি
১৫ মার্চ ২০২৬,
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাসিন্দা, শ্রমিক ও নাগরিকদের জেবেল আলি (দুবাই), খলিফা (আবুধাবি) এবং ফুজাইরাহ বন্দরসহ আশপাশের এলাকা অবিলম্বে ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই সতর্কবার্তা শনিবার (১৪ মার্চ) জারি করা হয়।
ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে বলে সুত্রে জানা যায় , যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এসব বন্দর ও ডক এলাকায় ‘গোপন আস্তানা’ ব্যবহার করে ইরানের খারগ দ্বীপসহ অন্যান্য স্থানে হামলা চালিয়েছে। ফলে এসব স্থানকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের জীবন রক্ষার স্বার্থে বন্দর, ডক এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকা থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে ইউএই কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ছোড়া মিসাইল ও ড্রোনের বেশিরভাগই ইউএইয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা দ্বারা আটকে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে ইরান খারগ দ্বীপে (ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র) মার্কিন হামলার প্রতিশোধে গালফ অঞ্চলে একাধিক দেশে আক্রমণ চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, ফ্লাইট বাতিল, এয়ারস্পেস বন্ধ এবং বহু প্রবাসী ও পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ইরানের এই সতর্কবার্তাকে অনেকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, যাতে ইউএইয়ের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি আরও অস্থির হলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায়।