প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬, ৭:০৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬, ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ প্রকাশের জের ধরে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমের মালিক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যতামূলক বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।
বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন নীতি-নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খসড়া আইনটি পরিমার্জন করা হচ্ছে, যেন নতুন এই আইন স্বাধীন সাংবাদিকতা রোধে কিংবা সংবাদকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে।
সংশোধনীতে যেসব বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব:
- আদালতের অনুমতি ও আইনি প্রক্রিয়া: সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের আগাম অনুমতির পাশাপাশি যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে।
- মানহানি ও সাইবার বুলিংয়ের ধারা পুনর্বিন্যাস: মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- অপতথ্য ও গুজবের স্পষ্ট সংজ্ঞা: আইনের অস্পষ্টতার সুযোগে হয়রানি ঠেকাতে ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য (মিসইনফরমেশন)’—এর সংজ্ঞাকে আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- মোবাইল কোর্ট বাতিল ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: খসড়ায় কোনো মোবাইল কোর্টের বিধান রাখা হচ্ছে না। এছাড়া যে কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে।
- ডিজিটাল কনটেন্ট সরাতে নির্দিষ্ট সময়সীমা: কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে এবং অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যম প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি এবং মেটা ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের নীতি-নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬