দিদারুল আলম জিসান: কক্সবাজার
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে চার মাস বয়সী শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে আটক করেছে র্যাব। একই সঙ্গে অপহৃত শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-১৫, কক্সবাজারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আটকরা হলেন—মোঃ আলম প্রকাশ নুরুল আলম (৩০), ভোলা সদর উপজেলার ভদ্রপাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে এবং তার স্ত্রী ত্রিশা প্রকাশ মারিয়া প্রকাশ সানজিনা আক্তার তিশা (২৫)। তারা ওই মামলার ৩ ও ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশু মারুফা জান্নাত মাহি (৪ মাস ৫ দিন) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ হালামী পাড়া গ্রামের মোঃ রশিদ উল্লাহ ও ইয়াছমিন আক্তারের মেয়ে।
গত ২১ আগস্ট শিশুটি বাবা-মায়ের সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরদিন বিকেল ৫টার দিকে ত্রিশা শিশুটিকে কোলে নিয়ে মোবাইল চার্জ দেওয়ার কথা বলে পাশের ঘরে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে সেখানে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ত্রিশা ও নুরুল আলমকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে ২৬ আগস্ট অপহরণকারীরা দুটি মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটির মায়ের ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে শিশুটিকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পাঁচজনকে এজাহারনামীয় এবং আরও এক-দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি ২৬ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/৩০ ধারায় করা হয়।
র্যাব-১৫ ও র্যাব-৭-এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামি চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানা এলাকায় অবস্থান করছেন।
এরপর সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টা ৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন কমিশনার গলির কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল আলম ও ত্রিশাকে আটক করে যৌথ দলটি। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু মারুফা জান্নাত মাহিকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, আটক আসামি ও উদ্ধার শিশুর বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।