
টেকনাফে প্রতিনিধি:
সংসারের চরম অভাব-অনটন আর টিকে থাকার লড়াইয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অনেক শিশুই আজ শৈশব হারিয়ে ঠাঁই নিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায়। অনেক পরিবারেই ১০ বছর পার হলেই একটি ছেলেকে বিবেচনা করা হচ্ছে উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে। তবে এই অভাবের তাড়না কতটা তীব্র হলে ১০-১২ বছরের একটি কোমলমতি শিশুকে উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে পাঠানো হয়—সেই প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের।
সম্প্রতি টেকনাফের শামলাপুর নৌকা ঘাটে ঘটেছে তেমনি এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। সাগরে মাছ ধরার নৌকার মেশিনের পাখার আঘাতে মাথা কেটে নির্মমভাবে মৃত্যু হয়েছে এক রোহিঙ্গা শিশুর। এত কম বয়সে সাগরের মতো ভয়াল কর্মস্থলে গিয়ে প্রাণ হারানোর এই ঘটনা উপকূল জুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে অভাবের কারণে শিশুশ্রম একটি কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ালেও সচেতন মানুষের প্রশ্ন—একটি শিশুর জীবন কি এতটাই সস্তা?
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় শুধু অর্থকষ্টে থাকা পরিবার এড়াতে পারে না ঠিকই, তবে নৌকার মালিক ও মাঝিদের ভূমিকাও এখানে বড় প্রশ্নের মুখে। আইন ও মানবিক দিক উপেক্ষা করে শুধু স্বল্প মজুরিতে কাজ করানোর উদ্দেশ্যে বা দায়িত্বে অবহেলা করে এত ছোট শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত করার দায় ট্রলার মালিক ও মাঝিরাও কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অভাব যতই থাক, শিশুদের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। শিশুশ্রম রোধে পরিবারগুলোকে সচেতন করার পাশাপাশি ট্রলার মালিক ও মাঝিরা যেন নাবালক শিশুদের সাগরে না নিয়ে যান, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।