প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২১, ২০২৬, ৮:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৮, ২০২৬, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গত ৬ মাসে ১৬৪ শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: জেলায় শীর্ষে চট্টগ্রাম, বিভাগে ঢাকা
নিউজ ডেস্ক :
দেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে সারা দেশে অন্তত ১৬৪টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৪টি শিশুকে। শুধু তা-ই নয়, শিশুদের জন্য ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরিচিত পরিবেশও এখন আর নিরাপদ নয়। মোট ঘটনার ৪৪ শতাংশেরই নেপথ্যে রয়েছে পরিচিতজন, আত্মীয় বা শিক্ষক-ইমাম।
প্রধান পরিসংখ্যান ও ভৌগোলিক চিত্র
ভুক্তভোগী ও ঘটনা: মোট ১৫৬টি ঘটনায় ১৬৪টি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
শীর্ষ বিভাগ ও জেলা: বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকায় (৪৯টি) এবং জেলা হিসেবে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম (১২টি, পুরো বিভাগে ৩৭টি)।
বয়সভিত্তিক ঝুঁকি: আক্রান্তদের মধ্যে ৭১ শতাংশ অর্থাৎ ১১৭ জন শিশুর বয়সই ১০ বছরের নিচে। এর মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে ২২ জন।
লিঙ্গভিত্তিক তথ্য: ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৮৭ জন কন্যাশিশু এবং ৪৩ জন ছেলেশিশু। বাকি ৩৪ জনের লিঙ্গপরিচয় জানা যায়নি।
পরিচিতদের হাতেই ৪৪% শিশু নির্যাতিত
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ (৮৮ জন) ঘটনায় অপরাধী অপরিচিত হলেও, ৪৪ শতাংশ (৭৬ জন) ঘটনার সাথে জড়িত ছিল শিশুর পরিবার, আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিরা। এর মধ্যে ৩৬টি ঘটনায় নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশী এবং ৩২টি ঘটনায় স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইমাম জড়িত ছিলেন।
বলাৎকারের ৬০ শতাংশই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে
গত ছয় মাসে ৪৩টি বলাৎকারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি ঘটনার (৬০%) অভিযুক্ত ব্যক্তিই ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষক বা মসজিদের ইমাম। বাকি ১৭টি ঘটনার মধ্যে ৫টিতে নিকট আত্মীয় এবং ১২টিতে অপরিচিত ব্যক্তি জড়িত ছিল।
মে মাসে রেকর্ড সংক্রমণ
মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিল মাস থেকে এই অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এপ্রিল মাসে যেখানে ৪২টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়, সেখানে মে মাসে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫ জনে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও করণীয়
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফাওজিয়া মোসলেম এই পরিস্থিতির জন্য দেশের "বিচারহীনতার সংস্কৃতি" ও ক্ষমতার দাপটকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সমাজে হিংস্রতা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, এই নৃশংসতা শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা ও বিশ্বাসহীনতা তৈরি করছে, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে কঠোর আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাবা-মাকে সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে সবসময় সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬