দিদারুল আলম জিসান, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। এ সময় আরও ৪ থেকে ৫ জন মাদক পাচারকারী পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
পরে বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে টেকনাফ থানার সাবরাং ইউনিয়নের সাবরাং খালের দক্ষিণ পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় মো. কবির হোসেনের জমিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পাচারকারী পালানোর চেষ্টা করলে সদস্যরা ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে তাদের সহযোগী আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
আটককৃতদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদে ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালানটি বাংলাদেশে নিয়ে আসে এবং স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু থানাধীন ভুসিডং জেলার বাসিন্দা মো. সাজেদ (৩২), পিতা মৃত নূর মোহাম্মদ সায়েদ এবং এনামুল হাসান (৩৩), পিতা আব্দুল হামিদ।
র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। পলাতক আসামিদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
র্যাব-১৫ এর কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান রোধে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।