নিউজ ডেস্ক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকানোর উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামা দেওয়ার যে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা বাদ দিয়েই খসড়া অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
বুধবার (১০ জুন) ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার এই সংশোধিত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দলগুলোকে তাদের মতামত জানাতে অনুরোধ করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ইসির কর্মকর্তারা ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় একটি নতুন ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করেছিলেন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—প্রার্থীদের এই মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে যে, তারা কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং দলটির কোনো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না। মূলত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠেকাতেই এই কৌশলী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে কমিশনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পর্যালোচনার পর এই বিতর্কিত ও জটিল বিধানটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনি জটিলতা এবং মাঠপর্যায়ে এটি কার্যকরের বাস্তবসম্মত দিক বিবেচনা করেই কমিশন এই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে জানা গেছে।
সব স্থানীয় সরকারের খসড়া বিধিমালা অনুমোদন
ইসি সূত্র জানায়, শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদই নয়, বরং দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আচরণ বিধিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত খসড়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা
পৌরসভা নির্বাচন আচরণ বিধিমালা
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা
জেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা
৩০ জুনের মধ্যে মতামতের আহ্বান
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত এই খসড়া বিধিমালাগুলো দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। দলগুলোর কাছ থেকে কোনো সংশোধনী, সংযোজন বা পরিবর্তনের পরামর্শ থাকলে তা লিখিতভাবে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে বিধিমালাগুলো চূড়ান্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।