ঈদগাঁও প্রতিনিধি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে।এতে মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট ও জনদুর্ভোগ, আর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রশ্ন।
ঈদগাঁও বাসস্টেশন থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত মহাসড়কের অংশে হাট বসায় সড়কটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সড়কের দুই পাশে পশু রেখে বেচাকেনা চলায় দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ছে দূরপাল্লার বাস, স্থানীয় যানবাহন এবং জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সও।যাত্রী ও স্থানীয়দের ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক এখন “কার্যত খোলা পশুর হাটে পরিণত হয়েছে”।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গতকাল হাট চলাকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা এবং ঈদগাঁও থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মহাসড়ক দখল করে এমন কার্যক্রম চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, বাস্তবায়নে প্রশ্নঃ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়ক ও এর আশপাশে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো নিষিদ্ধ হলেও ঈদগাঁওয়ে সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশাসনিক নির্দেশনা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কি না—এ নিয়েও আলোচনা চলছে। জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমে সচেতন মহল বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট স্বাভাবিক হলেও মহাসড়কের ওপর হাট বসানো সরাসরি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। দীর্ঘ যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং জরুরি সেবার ব্যাঘাত মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত অবৈধ হাট সরিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নঃ
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হুদা তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, আগে খোলা মাঠ বা নির্ধারিত খোলা জায়গায় পশুর হাট বসিয়ে নির্বিঘ্ন বেচাকেনা সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে হাট বসানোর কারণে জনদুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। তার মতে, আগের কার্যকর ব্যবস্থাগুলো পুনরায় চালু করলে এই ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সফল পুরনো ব্যবস্থাগুলো কেন এখন আর প্রয়োগ করা হচ্ছে না?”
ইউএনওর কঠোর অবস্থান: মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে একাধিক পদক্ষেপ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা স্পষ্টভাবে জানান, ঈদগাঁও পশুর হাটে যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে উপজেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি ও বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন “মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।”
ইউএনওর এই বক্তব্যে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বার্তা উঠে এলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে মহাসড়কে হাট বসা ও যানজট অব্যাহত থাকায় মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।