রামু কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের প্রবেশপথে মহাদেবের বিগ্রহ অবমাননা: ফুঁসে উঠেছে সনাতনী সমাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু |
রামুর হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে এক ন্যাক্কারজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। ফকিরা বাজার সংলগ্ন রামু কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের মূল ফটকে স্থাপিত পরম আরাধ্য মহাদেবের বিগ্রহে গোবর নিক্ষেপ করে পবিত্রতা নষ্ট ও ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে একদল দুর্বৃত্ত। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ভক্তদের পরিশ্রমে সাজানো এই প্রবেশপথের এমন অবমাননায় পুরো রামু জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে সিসিটিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই জঘন্য কাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র রক্তক্ষরণ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পহেলা বৈশাখের উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে এখন সেখানে প্রতিবাদের দাবানল জ্বলছে।
ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা
আন্দোলনরত ও ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের মতে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রামুর শান্ত আকাশকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষবাষ্পে ছেয়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত নীল নকশা বলে মনে করছেন হিন্দু সমাজ। আজ শ্মশানের ফটকে আঘাত হেনে যারা পার পেয়ে যেতে চায়, তারা আগামীকাল মন্দিরেও একই তাণ্ডব চালানোর দুঃসাহস দেখাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শ্মশানে সিসিটিভি নেই বলে যারা পার পেয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন,প্রতিটি সনাতনী বিবেক আজ এই অপমানের বিচার চায়।" — বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ঘটনার পর থেকে সনাতনী সমাজ ও রামুর শান্তিপ্রিয় মানুষ প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ভেঙে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্পষ্ট দাবিগুলো হলো:
অবিলম্বে শনাক্তকরণ: গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে কোনো অজুহাত ছাড়াই অপরাধীদের চিহ্নিত করা।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ষড়যন্ত্রের হোতাদের জনসমক্ষে এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত: ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানে স্থায়ী নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা।
বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।