দিদারুল আলম জিসান: কক্সবাজার
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সদা জাগ্রত অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সীমান্ত নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ২৩১০ ঘটিকায় গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ হ্নীলা বিওপি’র বিশেষ টহল দল কর্তৃক চৌধুরীপাড়া বিজিবি পোস্ট নামক স্থানে ফাঁদ পেতে বাঁধে । পাচারকারীরা মায়ানমার হতে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় বিজিবি টহল দলের সদস্যরা তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। তৎক্ষনাৎ পাচারকারীর সহযোগিরা যারা অনেক আগে থেকে লবণ ক্ষেতে (বেড়িবাঁধ হতে নাফ নদীর অপর পার্শ্বে) গোপনীয়ভাবে অবস্থান করছিল তারা বিজিবিকে লক্ষ্যে করে গুলি চালায়। তড়িৎ প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিজিবি আত্মরক্ষার্থে ফায়ার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে বিজিবি টহল দল পলায়নরত ইয়াবা কারবারীকে ধাওয়া করে নাফ নদীর তীর হতে (১) মোঃ তোফায়েল (২১), পিতা-মৃতঃ জোফর আলম, গ্রামঃ রাসুলাবাদ এবং (২) মোঃ ইউনুস (৩৩), পিতা-রুস্তম আলী, গ্রামঃ উলুচামারী, পোষ্টঃ হ্নীলা উভয়ের থানা-টেকনাফ ও জেলা-কক্সবাজারকে আটক করে এবং তাদের কাছে থাকা এক পোটলা ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত পোটলার ভিতরে বায়ুরোধী ০৫ কার্ট অর্থাৎ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে হ্নীলা এলাকা হতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিজিবি’র সর্বোচ্চ মাদক ৮,৫৯,৪০০ পিস ইয়াবা আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়াও গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ১৯৫০ ঘটিকায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপি’র বিশেষ টহল দল কর্তৃক পৃথক একটি অভিযান পরিচালনা করে ক্যারেঙ্গাঘোনা নামক স্থান হতে মোঃ সিফাত (২০), পিতা-মৃত আলী আকবর, গ্রাম-ক্যারেঙ্গাঘোনা, ডাকঘর-হোয়াইক্যং, থানা-টেকনাফ এবং জেলা-কক্সবাজারকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) পিস ইয়াবাসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক দুইটি মাদক বিরোধী অপারেশনে বিজিবি কর্তৃক গত রাতে ০৩ (তিন) জন আসামীসহ আনুমানিক ২,১০,০০,০০০/- টাকা মূল্যের সর্বমোট ৭০,০০০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদক চোরাকারবারিদেরকে শনাক্ত করে তাদেরকে গ্রেফতার করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং চোরকারবারির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে| আটককৃত আসামীদেরকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সব সময় কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।