কক্সবাজারের মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে নিরীহ লবণ শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাতারবাড়ি ও কালারমারছড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বুইরগাজুড়া এলাকায় কোহেলিয়া নদীর তীরবর্তী লবণ মাঠ থেকে তাদের আটক করে মহেশখালী পৌরসভাস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে তাদের জোরপূর্বক অস্ত্র হাতে ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ঝাপুয়া এলাকার ছাবের আহমদ (৪৭), তার ভাই ছালেহ আহমদ (৪০) যিনি চকরিয়ার বহদ্দারকাটায় একটি মাদ্রাসায় ১৭ বছর ধরে শিক্ষকতা করেন, এবং শ্রমিক গফুর, হুমায়ুন, আব্বাস ও আবদুল হক। পরিবারের সদস্যরা জানান, এদের কারও সঙ্গে অস্ত্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবু ছবিগুলো পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা দায়ের বা তাদের অপরাধী সাব্যস্ত করার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ছাবের আহমদের স্ত্রী খদিজা বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় সন্ত্রাসী আরাফাতের সঙ্গে তার ভাসুর ছালেহ আহমদের লবণ জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। আরাফাত কোস্টগার্ডকে ব্যবহার করে তাদের আটক করিয়ে লবণ জমি দখল ও লবণ লুটের চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে পরিবার চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের সঙ্গে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের সোর্স হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা হলেন মুবিন, হালিম ও আরাফাত। অভিযোগ রয়েছে, এরাই বিরোধী পক্ষের লোক এবং তারাই কাদের আটক করতে হবে তা চিহ্নিত করে দিয়েছে।
প্রথমে লবণ মাঠ থেকে ছাবের আহমদসহ চার শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে জমির মালিক ছালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ নম্বর গেট এলাকায় তাকে আটক করা হয়। তার মোটরসাইকেলটি এখনো সেখানে পড়ে আছে বলে জানা গেছে।
আটক অবস্থায় ছাবের আহমদ হৃদরোগী হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোস্টগার্ড সদস্যরা তার মোবাইল থেকে স্ত্রীকে ফোন করে ওষুধ পাঠাতে বলেন। পরিবারের দাবি, আটককৃতদের মারধর করা হয়েছে এবং অস্ত্র হাতে ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে।
খদিজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ মানুষ, কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। জোর করে অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন যাতে নিরীহ মানুষদের হয়রানি বন্ধ হয়।