![]()
![]()
কক্সবাজার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ : কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ার ঘোনা টেইলা পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বোমা আবিষ্কার হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে অভ্যস্ত অংশ হয়ে উঠেছিল। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, এই বোমাটির উপর অনেকদিন যাবত কাপড় কাচা এবং অন্যান্য গৃহস্থালী কাজ করা হতো, কিন্তু এখন এটির অভ্যন্তরে বিস্ফোরক উপাদান রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। বিস্ফোরক না থাকলে এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিকর ও এডভোকেট শিরুপন বড়ুয়া শিরু।
এই বোমাটি যুদ্ধকালীন বিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটি পাহাড়ের পাদদেশে অর্ধেক মাটিতে পুঁতে থাকা অবস্থায় ছিল। সিলিন্ডার গ্যাসের মতো আকৃতির এই বোমার ওজন প্রায় ৭ থেকে ৮ মণ (২৮০-৩২০ কেজি) হতে পারে, এবং এর গায়ে ৯টি পাখা ও দুই পাশে ক্যাবল সংযুক্ত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কাদেরের বাড়ির সামনে এটি পাওয়া যায়, যা রামুর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এলাকাবাসীরা জানান, বোমাটির উপর কাপড় কাচা এবং ধোয়ার কাজ করা হতো কারণ এটিকে নিরাপদ মনে করা হতো। তবে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উঠেছে। স্থানীয় একজন বলেন, "এটাতে এক্সপ্লোসিভ আছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। না থাকলে এটাকে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত, কারণ এটা আমাদের এলাকার ইতিহাসের সাক্ষী।
এই আবিষ্কার কক্সবাজারের রামু অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ অঞ্চল যুদ্ধক্ষেত্রের অংশ ছিল, এবং এমন অনেক অবশিষ্টাংশ এখনও পাওয়া যায়। এডভোকেট শিরুপন বড়ুয়া শিরু বলছেন, এ ধরনের আর্টিফ্যাক্টগুলো নিরাপত্তা পরীক্ষার পর জাদুঘরে সংরক্ষণ করলে তা পর্যটন এবং শিক্ষামূলক মূল্য যোগ করবে।
যদি বোমাটিতে বিস্ফোরক উপাদান পাওয়া যায়, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীকে তা নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয়রা এখন অপেক্ষা করছেন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।